top of page

প্রথমবার ফ্ল্যাট কিনেছেন? ইন্টেরিয়র শুরু করার আগে এই ১০টি কাজ করুন

  • 3 days ago
  • 5 min read

ফ্ল্যাটের চাবি হাতে পেলে একটা অদ্ভুত অনুভূতি হয়। মনে হয় দুনিয়াটা জয় করে ফেলেছেন। পরিবারের সবাই খুশি। বাবা-মা গর্বিত। স্ত্রী Pinterest খুলে বসে আছেন।


কিন্তু এই খুশির মধ্যেই একটা ভয় কাজ করে। ভয়টা হলো, এখন কী করবো?


ইন্টেরিয়র ডিজাইনার খুঁজবো? নাকি আগে কিছু করার আছে? টাইলস আগে, নাকি ইলেকট্রিক আগে? বাজেট কত রাখবো?

এই প্রশ্নগুলো সবার মাথায় আসে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ উত্তর না জেনেই কাজ শুরু করে দেন। তারপর ছয় মাস পর বুঝতে পারেন, কিছু ভুল হয়ে গেছে। সেই ভুল ঠিক করতে আবার লাখ টাকা খরচ।


আজকে সেই ১০টা কাজের কথা বলবো যেগুলো ইন্টেরিয়র শুরু করার আগে করা দরকার। এগুলো কেউ বলে না। কিন্তু না করলে পরে আফসোস হয়।


১. ডেভেলপারের কাছ থেকে structural drawing নিন


এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অথচ ৯০% মানুষ করেন না।


Structural drawing হলো আপনার ফ্ল্যাটের হাড়-গোড়ের ছবি। এটা দেখলে বোঝা যায় কোন দেয়ালটা load-bearing, আর কোনটা partition wall। Load-bearing wall ভাঙা যায় না। ভাঙলে বিল্ডিংয়ের ক্ষতি হয়। Partition wall সরানো যায়, এমনকি ভেঙে দেওয়া যায়।


ধরুন আপনি দুটো ছোট ঘর মিলিয়ে একটা বড় ঘর করতে চান। মাঝখানের দেয়ালটা কি ভাঙা যাবে? Structural drawing ছাড়া কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারবে না। 


ডেভেলপারের অফিসে গিয়ে বলুন, "আমার ফ্ল্যাটের structural drawing দিন।" তারা দিতে বাধ্য।


২. প্রতিটা দেয়াল চেক করুন, স্যাঁতসেঁতে কি না


ঢাকায় একটা কথা আছে, "নোনা ধরেছে।" এই নোনা মানে দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাব। বাইরের দিকের দেয়ালে এটা বেশি হয়। উপরের তলায় ছাদ থেকে পানি চুঁইয়ে আসে। নিচের তলায় মাটি থেকে আর্দ্রতা উঠে আসে।


নতুন ফ্ল্যাটেও এই সমস্যা থাকতে পারে। ডেভেলপার waterproofing ঠিকমতো না করলে প্রথম বর্ষাতেই ধরা পড়বে।

কীভাবে চেক করবেন? সহজ। দেয়ালে হাত রাখুন। ঠান্ডা লাগলে সমস্যা আছে। কোণায় কালো দাগ দেখলে সমস্যা আছে। পেইন্ট ফুলে উঠলে সমস্যা আছে।


এই সমস্যা ইন্টেরিয়রের আগে ঠিক করতে হবে। না করলে লাখ টাকার পেইন্ট ছয় মাসে নষ্ট হবে। Damp-proof treatment এটা ইন্টেরিয়রের আগে করার কাজ, পরে না।


৩. সব electrical point আর plumbing line টেস্ট করুন


সুইচ টিপে দেখুন লাইট জ্বলে কি না। প্লাগে ফোনের চার্জার লাগিয়ে দেখুন কাজ করে কি না। বাথরুমে পানি ছেড়ে দেখুন চাপ কেমন। কোনো পয়েন্টে পানি লিক করছে কি না।


এগুলো বোরিং কাজ। কিন্তু এখন ধরা না পড়লে ইন্টেরিয়রের পর ধরা পড়বে। তখন টাইলস ভাঙতে হবে, ফলস সিলিং খুলতে হবে। খরচ তিনগুণ।


একটা সিম্পল চেকলিস্ট বানিয়ে নিন। প্রতিটা ঘরের প্রতিটা সুইচ, প্লাগ, পানির কল, সব টেস্ট করুন। সমস্যা পেলে ডেভেলপারকে জানান। হ্যান্ডওভারের পরেও বেশিরভাগ ডেভেলপার এই ধরনের ছোট সমস্যা ঠিক করে দেন।


৪. এখনই সব electrical point প্ল্যান করুন। পরে করলে ৩-৫ গুণ খরচ


এটা সবচেয়ে বড় ভুল যেটা প্রথমবার ফ্ল্যাট কেনা মানুষেরা করেন।


ডেভেলপার যে electrical point দেয়, সেটা basic। প্রতি ঘরে দুটো-তিনটা প্লাগ। একটা লাইট। একটা ফ্যান। ব্যস।

কিন্তু আপনার আসল দরকার অনেক বেশি। ভাবুন, AC-র জন্য আলাদা ১৬ অ্যাম্পিয়ার সকেট লাগবে। কিচেনে ওভেনের জন্য আলাদা লাইন লাগবে। ওয়াশিং মেশিনের জন্য আলাদা সকেট। প্রতিটা বেডের দুই পাশে USB charging point। TV-র পেছনে ৩-৪টা সকেট। স্টাডি টেবিলে কম্পিউটার, মনিটর, রাউটারের জন্য আলাদা সকেট।


এগুলো ইন্টেরিয়র শুরু করার আগে ঠিক করতে হবে। কারণ ইলেকট্রিক লাইন দেয়ালের ভেতর দিয়ে যায়। পেইন্ট করার পরে, ফলস সিলিং লাগানোর পরে নতুন লাইন দিতে গেলে সব ভাঙতে হবে।


একটা কাগজে ফ্ল্যাটের ম্যাপ আঁকুন। প্রতিটা ঘরে কোথায় কী আসবে, সেটা বসিয়ে দিন। তারপর ইলেকট্রিশিয়ানকে দেখান। এই কাজটা এখন করলে খরচ ১০-১৫ হাজার টাকা। পরে করলে ৫০-৭০ হাজার।


৫. ফ্লোরিং সবার আগে ঠিক করুন


অনেকে মনে করেন ফ্লোরিং পরে ঠিক করলেও হবে। এটা ভুল।


কারণ tile adhesive-এর একটা নির্দিষ্ট পুরুত্ব আছে। এই পুরুত্বের ওপর নির্ভর করে আপনার ঘরের floor level কোথায় দাঁড়াবে। Floor level ঠিক না থাকলে দরজা আটকে যায়। বাথরুমের পানি বাইরে চলে আসে। একটা ঘর থেকে আরেকটা ঘরে যেতে একটু উঁচু-নিচু লাগে।


আরেকটা ব্যাপার আছে। ধরুন আপনি লিভিং রুমে wood-look টাইলস দেবেন, বেডরুমে সাধারণ টাইলস, আর বাথরুমে anti-skid টাইলস। তিন ধরনের টাইলসের পুরুত্ব তিন রকম। এগুলো একই level-এ আনতে হলে adhesive-এর পুরুত্ব adjust করতে হয়। এটা শুরুতেই প্ল্যান না করলে পরে গণ্ডগোল হয়।


তাই ইন্টেরিয়রের প্রথম সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত, কোন ঘরে কী ধরনের মেঝে হবে।


৬. বিল্ডিং কমিটির অনুমতি নিন


এটা অনেকে জানেন না। কিন্তু না জানলে বিপদে পড়বেন।


ঢাকার বেশিরভাগ অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে একটা কমিটি থাকে। ইন্টেরিয়র কাজ শুরু করতে হলে তাদের কাছ থেকে অনুমতি লাগে। 


অনুমতি ছাড়া মিস্ত্রি ভেতরে ঢুকতে পারবে না। ম্যাটেরিয়াল আনতে পারবে না। লিফট ব্যবহার করতে পারবে না। কাজের সময়সীমা থাকে। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। শুক্রবার কাজ বন্ধ। 


তাই আগে বিল্ডিং কমিটির সাথে কথা বলুন। 


৭. খালি ফ্ল্যাটের ছবি তুলে রাখুন


এটা সবচেয়ে সহজ কাজ। অথচ কেউ করে না।


ফোন দিয়ে প্রতিটা ঘরের ছবি তুলুন। দেয়ালের কোণা, সিলিংয়ের জয়েন্ট, বাথরুমের পাইপিং, কিচেনের গ্যাস লাইন, সব। ভিডিও করলে আরো ভালো।


কেন? কারণ ইন্টেরিয়রের কাজ শুরু হলে দেয়াল ঢেকে যাবে। ফলস সিলিং লাগলে ছাদ দেখা যাবে না। ওয়ার্ডরোব বসলে পেছনের দেয়াল আর দেখতে পাবেন না।


কিন্তু পরে যদি কোনো সমস্যা হয়, পানি লিক, ইলেকট্রিক ফল্ট, ড্যাম্প, তখন এই ছবিগুলো কাজে আসবে। কোথায় পাইপ আছে, কোথায় ওয়্যারিং গেছে, সব বোঝা যাবে। ডেভেলপারের সাথে কোনো বিবাদ হলেও এই ছবি প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।


৫ মিনিটের কাজ। কিন্তু পরে হাজার টাকার সমস্যা বাঁচাতে পারে।


৮. বাস্তবসম্মত বাজেট ঠিক করুন। আর ১৫% contingency রাখুন


ইন্টেরিয়রের বাজেট ঠিক করা কঠিন। কারণ বেশিরভাগ মানুষ জানেন না কোন জিনিসে কত খরচ হয়।


একটা সাধারণ হিসাব দিই। ঢাকায় ১,২০০ স্কয়ার ফিটের একটা ফ্ল্যাটে ইন্টেরিয়র করতে মোটামুটি তিনটা range আছে:


  • বাজেট: ১০-১৫ লাখ টাকা। সিম্পল ডিজাইন, লোকাল ম্যাটেরিয়াল, বেসিক ফিটিংস।

  • মিড-রেঞ্জ: ২০-৩৫ লাখ টাকা। ভালো মানের marine plywood, Hettich hardware, quartz countertop।

  • প্রিমিয়াম: ৪০-৬০ লাখ+ টাকা। ইম্পোর্টেড ম্যাটেরিয়াল, Hafele fittings, কাস্টম ডিজাইন।


কিন্তু যত বাজেটই ঠিক করুন, ১৫% বাড়তি রাখুন। এটাকে বলে contingency fund। ইন্টেরিয়রের কাজে অপ্রত্যাশিত খরচ আসবেই। ইলেকট্রিক rewiring দরকার হতে পারে। দেয়ালে ড্যাম্প ট্রিটমেন্ট লাগতে পারে। টাইলসের দাম বাড়তে পারে। কিচেনে একটা extra cabinet দরকার হতে পারে।


১৫% রাখলে মাথা ঠান্ডা থাকে। না রাখলে কাজের মাঝখানে টাকা শেষ হয়ে যায়। অর্ধেক করা ইন্টেরিয়রে থাকা, এর চেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা আর নেই।


৯. টাইমলাইন বুঝে নিন। তাড়াহুড়ো করবেন না


ইন্টেরিয়রের কাজে সময় লাগে। এটা মেনে নিতে হবে।


সাধারণত ঢাকায় একটা ২ বেডরুমের ফ্ল্যাটে ইন্টেরিয়র করতে ৬-৮ সপ্তাহ লাগে। ৩ বেডরুমে ৮-১২ সপ্তাহ। কিন্তু এটা হলো ideal timeline। বাস্তবে ম্যাটেরিয়াল দেরিতে আসে। মিস্ত্রি অন্য সাইটে ব্যস্ত থাকে। বৃষ্টির সময় কাজ ধীর হয়। 

তাই ৪৫ দিনের প্রজেক্ট ৭৫-৯০ দিনে শেষ হলে অবাক হবেন না।


কী করবেন? শুরুতেই একটা পরিষ্কার timeline ঠিক করুন। কোন কাজ কোন সপ্তাহে হবে, লিখে রাখুন। মাইলস্টোন ঠিক করুন। আর যদি সম্ভব হয়, চুক্তিতে delay penalty রাখুন। 


তবে সবচেয়ে জরুরি কথা, তাড়াহুড়ো করবেন না। তাড়াহুড়ো করলে কাজের মান খারাপ হয়। একটু দেরি হোক, কিন্তু ভালো হোক।


১০. ঠিকাদার বা ডিজাইনার যাচাই করুন। লিখিত quote নিন


ঢাকায় ইন্টেরিয়র ফার্মের অভাব নেই। Facebook-এ সার্চ করলে শত শত পেজ আসবে। কিন্তু সবাই ভালো না। কিছু ফার্ম সুন্দর 3D render দেখিয়ে কাজ নেয়, তারপর সস্তা ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি করে।


কীভাবে যাচাই করবেন?


তাদের আগের কাজ দেখুন। 3D render না, আসল ছবি। সাইটে গিয়ে দেখতে পারলে সবচেয়ে ভালো। 


আর সবচেয়ে জরুরি, বিস্তারিত লিখিত quote নিন। শুধু "কিচেন ৩ লাখ" না। কোন ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার হবে, কোন ব্র্যান্ডের hardware, কত স্কয়ার ফিটে কত টাকা, সব লেখা থাকতে হবে। Marine plywood বলে particle board দিলে ধরতে পারবেন।


ভালো ইন্টেরিয়র ফার্ম itemized quote দিতে কখনো আপত্তি করে না। যারা আপত্তি করে, তাদের থেকে দূরে থাকুন।

নতুন ফ্ল্যাটে ঢোকার উত্তেজনায় অনেক কিছু মাথায় থাকে না। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই ১০টা কাজ যদি আগে করে নেন, তাহলে বাকি সব কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।


ইন্টেরিয়র শুধু সুন্দর করার ব্যাপার না। এটা আপনার পরিবারের পরবর্তী ১০-১৫ বছরের আরামের ব্যাপার। একটু সময় নিন। একটু ভাবুন। তারপর শুরু করুন।

Comments


Join our mailing list

BANGLADESH

Level -1, House - 2/A, Road- 2/1 Block-L, Banani, Dhaka 1213
+880 1705-847906

UNITED STATES

1251, 447 Broadway,

2nd Floor, New York, NY,

New York, US, 10013
+19177402976

UNITED ARAB EMIRATES

Plot 03, WS-2, Oud Metha Rd - Umm Hurair 2 - Dubai - UAE

+971558525669

Connect

  • Facebook
  • LinkedIn
bottom of page